নিজস্ব প্রতিবেদক | রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট
ডেঙ্গুর বিস্তার ঠেকাতে জনগণকে সম্পৃক্ত করে সারা দেশে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম আরও জোরদারের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে ডেঙ্গু মোকাবিলায় প্রতিরোধমূলক কার্যক্রমকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ও করণীয় নিয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় প্রধানমন্ত্রী এসব নির্দেশনা দেন।
সভায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু সরকারি সংস্থার ওপর নির্ভর না করে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। বাড়িঘর ও আশপাশের এলাকা পরিষ্কার রাখা, কোথাও পানি জমতে না দেওয়া, ময়লা-আবর্জনা অপসারণ এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করার বিষয়ে জনগণকে আরও সচেতন করার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।
পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা স্বেচ্ছাসেবকদের পাশাপাশি বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর, রোভার স্কাউট ও রেড ক্রিসেন্টের কর্মীদের সম্পৃক্ত করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে এসব সংগঠনের কর্মীদের কাজে লাগিয়ে সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনার ওপর জোর দেন প্রধানমন্ত্রী।
সভায় উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসাসেবা ও রোগী ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব পায়। বিশেষ করে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে স্থানীয় পর্যায়ের হাসপাতালগুলোর প্রস্তুতি আরও জোরদারের প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়।
হাসপাতালে ভর্তি ডেঙ্গু রোগীদের ব্যবহারের জন্য মশারি সরবরাহের বিষয়েও আলোচনা হয়। আক্রান্ত রোগীকে মশা কামড়ানোর পর সেই মশার মাধ্যমে অন্য ব্যক্তির শরীরে ডেঙ্গুর জীবাণু ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। তাই হাসপাতালগুলোতে রোগীদের মশারির মধ্যে রাখার ব্যবস্থা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সভায় নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘মাঠে এর প্রতিফলন থাকতে হবে।’ অর্থাৎ সভায় সিদ্ধান্ত গ্রহণের মধ্যেই কার্যক্রম সীমাবদ্ধ না রেখে স্থানীয় পর্যায়ে এর বাস্তব প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।
ডেঙ্গু মোকাবিলায় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে জনগণের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালানোর ওপর জোর দেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় বাড়িঘর ও আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি নাগরিকদের নিজেদের উদ্যোগে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে বাসাবাড়ির ছাদ, ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, নির্মাণাধীন ভবন ও অন্যান্য স্থানে জমে থাকা পানি নিয়মিত অপসারণের বিষয়ে মানুষকে সচেতন করার প্রয়োজনীয়তার কথা উঠে আসে।
সভায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আব্দুল মঈন খান, প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত, প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম খানসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিব এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
Posted ১১:২৯ পূর্বাহ্ণ | রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
9 News Bd | s s